মঙ্গলবার, ৩০ Jun ২০২৬, ০৮:১৬ পূর্বাহ্ন
করোনা মহামারির সময়েও দেশের অন্যতম বৃহত্তম স্থলবন্দর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া দিয়ে রপ্তানি আয় বেড়েছে প্রায় ১৫০ কোটি টাকা। তবে বন্দর দিয়ে আমদানি কিছুটা কমেছে। যে কারণে রাজস্ব আয়েও কিছুটা কমতি লক্ষ করা গেছে। এ ছাড়া যাত্রী পারাপার অনেকটাই বন্ধ থাকায় ভ্রমণ কর বাবদ রাজস্ব আয়েও বেশ প্রভাব পড়ে।
বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা বলছেন, মূলত ওপারে অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ত্রিপুরা ও এর আশপাশের রাজ্যগুলোতে বাংলাদেশের নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর চাহিদা বেড়ে যায়। বিশেষ করে মাছের চাহিদা কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়ায় রপ্তানি আয়ে প্রভাব পড়ে।
ব্যবসায়ীরা আরো জানান, এ বন্দর দিয়ে মাছের পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় প্লাস্টিক সামগ্রী, জুস, নির্মাণসামগ্রী রপ্তানি হয়। তবে ভারত থেকে আসে শুধু শুঁটকি আর আদা। তবে স্বাভাবিক সময়ে ১৫-২০ ধরনের পণ্য রপ্তানি হতো। বন্দরটি মূলত রপ্তানিনির্ভর।
আখাউড়া স্থল শুল্ক স্টেশন থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, ২০২০-২১ অর্থবছরে এই বন্দরে রপ্তানি হয়েছে ৬৯৭ কোটি ৭০ লাখ এক হাজার ৭৫৮ টাকার পণ্য। এর আগের অর্থবছরে রপ্তানি হয় ৫৪২ কোটি ১৩ লাখ ২৯ হাজার ৯৩০ টাকা, যা সর্বশেষ অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ১৫০ কোটি টাকা কম।
সূত্র মতে, সর্বশেষ অর্থবছরে আমদানি হয় এক কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার ২১৮ টাকার পণ্য। ২০১৯-২০ অর্থবছরে আমদানি হয় এক কোটি ১৭ লাখ চার হাজার ৬৩৯ টাকার পণ্য। গত অর্থবছরে রাজস্ব আয় ৩২ লাখ ৬৮ হাজার ১৯৮ টাকা ও এর আগের বছর রাজস্ব আয় হয় ৪০ লাখ ৪৯ হাজার ৮০৫ টাকা।
আখাউড়া স্থলবন্দর আমদানি-রপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. শফিকুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘করোনাকালীন বিশেষ করে গত কয়েক মাস ধরে ভারতে অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা অনেকটাই ভেঙে পড়ে। পণ্য পরিবহনে কোনো নিষেধাজ্ঞা না থাকলেও মাছসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় অনেক জিনিস ত্রিপুরাতে আসছিল না। যে কারণে সেখানে বাংলাদেশি পণ্যের চাহিদা বেড়ে যায়।’
তিনি আরো বলেন, ভারত থেকে পণ্য আমদানি বাড়লে রাজস্ব আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি ব্যবসায় গতি ফিরবে। এই বন্দর দিয়ে নতুন কয়েকটি পণ্য আমদানির বিষয়টি অনুমতির অপেক্ষায় আছে বলে জানান তিনি।